কাটলো ঘুড়ি

কাটলো ঘুড়ি

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

ওই কাটলো ঘুড়ি –

কাটলো ঘুড়ি, কাটলো ঘুড়ি,

কচি কাচার হুড়োহুড়ি 

কাটলো ঘুড়ি !


নীল আকাশে চোখ চলে যায়

ওই যে ঘুড়ি, ওই ভেসে যায় !

হাওয়ার কোলে, কেমন দোলে 

নামছে নীচে  অলস তালে –

কাটলো ঘুড়ি !


চল্লিশের মন্দ দিকে,

চুলের রেখা হচ্ছে ফিঁকে 

তবুও কেমন বুক ঢিব ঢিব 

নামছে ঘুড়ি, পরবে তো ঠিক ?

কাটলো ঘুড়ি !


কোথায় পরবে ? কাদের ছাদে ?

কিম্বা কোনো গাছের মাথায়

নানান রকম সম্ভাবনায় 

মন ভরে যায় উত্তেজনায়,

কাটলো ঘুড়ি !


কাগজ সুতোর  কতই বা দাম 

আকাশ কে রোজ বার্তা দিতাম 

রোদ মাখা ওই চিলতে কাগজ 

তার পেছনে ছুটছে  অবুঝ 

কাটলো ঘুড়ি !


নিজের ভেতর নিজেই ছুটি 

বৃথাই করি অবুঝপনা 

ওই ঘুড়ি আর আমার তো নয় 

ধরতে মানা, ধরতে মানা 

কাটলো ঘুড়ি !

———

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

    -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

শুকনো পাতায় ভরা জীর্ন ঘর 

চার দেয়ালে চার অধ্যায় টাঙানো পরপর, 

আসিও সংগোপনে

বিছানায় এক ফালি আলাপি রোদ্দুর 

জানালার পর্দায় বাতাসের সুর,

প্রিয়তমা আসিও সংগোপনে 

——

প্রেম ছত্রাক  ( 30 )

প্রেম ছত্রাক  ( 30 )

      -সাম্যময় সেন গুপ্ত-


তোমার প্রিয় সময়টাতে

পরলো মনে তোমার কথা 

হৃদয় বীণায় উঠলো বেজে 

অপার্থিব নিরবতা 

রাতের বুকে মুখটি গুজে 

দিন হারাবে মনের সুখে 

সাঁঝের আবির মাখিয়ে দিলাম 

লজ্জা রাঙ্গা তোমার মুখে 

——–

তোমায় ভেবে 

তোমায় ভেবে 

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


আমার রুমালে কলকাতা লেগে আছে , 

ডান কাঁধেতে তোমার নখের দাগ ,

তোমার ঠোঁটের পায়ড়ারা বিদ্ধস্ত –

পরে আছে ওই গ্রাউন্ড জিরো-এ, এলোমেলো খাট


কাঁটাতার বেড়া, তারই নিচে খুড়ে মাটি

স্বাধীনতা আমি পাচার করেছি রোজ, 

তোমার খাঁজে খাঁজে মাদক কোকেন নেশা ,

শহরের সাথে শরীরী এক্সট্রা ডোজ


লালসায় লাল, কামনায় নীল, আর 

ডায়রিতে, আবছা ধুসর আমি ;

বন্দর ছেড়ে ওই রওনা দিলো এই জাহাজ,

ভালো থেকো মেয়ে, এই শহরটা তোমারি !

————-

সেই আকাশ 

সেই আকাশ 

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

ছোটবেলার আকাশে 

মা মরলে তারা হয় 

বাবা মরলে তারা হয় …..,

বড়বেলার আকাশে –

কেউ কিছু হয় না


বড়বেলার আকাশ শুধু 

মনখারাপের মেঘে ভরা,


কখনো তোমার মেঘে 

আমার পাড়ায় বৃষ্টি,

কখনো  আমার মেঘে 

তোমার পাড়ায়

———-

​বিক্রম – সনিকা 

​বিক্রম – সনিকা 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


রাত মাখা রাস্তায় 

উল্কা গতি ধাবমান গাড়ি 

গাড়ির ভেতর 

একজন সুন্দরি, একজন সুপুরুষ 

খানিক অন্ধকার, খানিক ভাললাগা,

খানিকটা নেশা, খানিক কুয়াশা 
এই সবই গাড়িটার 

সামনের সিটের কথা 

পেছনের সিট সহ অর্ধেকটা 

অনেকটাই পেছনে, বহু দুরে,

বহু মাইল দুরে, সুদুর অতীতে 
সেই সিট আলো মাখা, 

সিটে ছরানো লাজুক হাসি 

বাঁধো  বাঁধো চিঠি, প্রথম চুম্বন শিহরন 

স্থির ভালবাসা, আর স্নিগ্ধ প্রেম 
অর্ধেক গাড়ি, ধাবমান গাড়ি 

খাদে গিয়ে পরে, 

এখন চারিদিকে শুধুই দেখি 

অর্ধেক গাড়ি, অর্ধেক জীবন,

অর্ধেক হৃদয়, অর্ধেক মানুষ…..,
বাকি অর্ধেক গাড়ি পরে থাকে 

কালি ঝুলি মেখে, “আগেকার দিনে”
————–

News:

Accident kills Model, injures Tv Actor

নিতান্তই মামুলি 

নিতান্তই মামুলি 

      –  সাম্যময় সেন গুপ্ত  –

ভদ্রলোক আমার কাছে দুহাজার টাকার নোটের খুচরো চাইলেন. আমার কাছে ছিলো কিন্তু দিলাম না. ভদ্র ভাবে স্মিত হেসে  আক্ষেপের ভঙ্গিতে বললাম “সরি, নেই “. ভদ্রলোক বিমর্ষ ভাবে প্রায় স্বগতোক্তি করলেন “ছেলেটা হসপিটালাইসড ………, ওষুধটা তো লাগবেই ……. “. 

তারপর  গরমের সেই নিঝুম দুপুরে পর পর কয়েকটি ঘটনা  ঘটলো. খবরের কাগজে বেরোয়নি. 

-আমি লজ্জিত হলাম

-আমার মধ্যে অপরাধ বোধ এল 

-আমার ভদ্রলোকের জন্য কষ্ট হল 

-আমি ওনার টাকা ভাঙ্গিয়ে দিলাম 

-মনে মনে চাইলাম – ওনার ছেলে যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে 

একজন মানুষের দুঃক্ষ আরেকজন কে ছুঁয়ে গেলো, কেউ জানল না. একের আনন্দ অন্য কে না ছুঁলেও দুঃক্ষ কিন্তু ছোঁয়. আমরা সব্বাই একে অন্যের সাথে দুঃখের সুতোএ বাঁধা পরে থাকি. অপরিচিতের দিকে হাত বাড়ানোয় সুখ, অপরিচিতের হাত ধরায় সুখ. 

সেই দুপুরের রাগি রোদ্দুরটা , রাস্তার পিচ গলিয়ে, ওনাকে আমাকে গলিয়ে, এক দারুণ উত্তেজনায় ছাতিম গাছের পাতায় শেষ বেলার  নরম লাজুক মেয়েটি হয়ে থিরি থিরি কাঁপছিলো.

———–

মূল্য আপেক্ষিক 

মূল্য আপেক্ষিক 

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রজাপতির কাছে ফুল –

কবিতা নয়,

কবিতা নয় নারি ,

ধর্ষকের কাছে,

একশো পাঁচশোর নোটে, 

বাপুজির হাসি  মূল্যহীন, 

মূল্যহীন হয় দামি শাড়ি 

কুশ্রী  নারির  অঙ্গে,

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি 

আর আমি যদি না হই 

তোমার রূপে মুগ্ধ,

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি –

আর তুমি যতটা বোঝাও 

আমি তার সিকিভাগ বুঝি 

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

বোঝা গেলো সুন্দরী  ?

কাজেই, ঝিরিঝিরি বাতাশে 

বাগানের ফুল হয়ে দুলে যাও,

দুলে যাও….., দুলে যাও…..,

ঝরে যাওয়ার আগে !

________

​​অসুখ 

অসুখ 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমার এক অদ্ভুত অসুখ হয়েছে. চিকেন কারি দিয়ে ভাত মেখে খাওয়ার সময় মনে পরে যায় টিভিতে দেখা উড়িষ্যার আদিবাসীদের খিদের জ্বালায় গাছের শিকড় সিদ্ধ করে খাওয়া. দামি আইসক্রিম  মুখে গলতে থাকে আর মনে পরে যায় বহু বছর আগে তোলা ছবি, ভিখিরি বাবার কোলে ভিখিরি বাচ্চার মুখটা. এক মাথা ময়লা চুল, কালো টলটলে মুখ, বড়ো বড়ো চোখ. বঞ্চিতদের কথা মনে পরে যাওয়া তো বড় সোজা অসুখ নয় ! অসুখ না বলে ন্যাকামিও বলা যায়. কে যেন কানে ফিস  ফিস করে বললো – শালা কমিউনিজম মারাচ্ছো ? 

তাই চুপচাপ থাকি, দামি হুইস্কিতে চুমুক দিই আর গোপন অসুখ নিয়ে ঘর করি.

_______