জমেনি আসর

জমেনি আসর

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

দুধ সাদা ঘাসে 

                নীল শাড়ি মাখা 

কিশোরী মনে, তরুণী দেহে 

               যুবতীর শুয়ে থাকা 

দরজা জানালা খোলা কল্পনার ঘর 

মধ্য রাতে হানা দেয় চাঁদনী ধোয়া ঝড় 

হায়, ঠুমরি ছিলো, দাদরা ছিলো, 

তবু জমেনি আসর !

আঁতোরের গন্ধ মাখা 

                   রূপের হেয়ালি 

চোখের ওই ঝাড়বাতিতে 

                  আলোর দেয়ালি,

তবলা বায়া সারেঙ্গিতে সবাই বিভোর 

  নিস্তব্ধ প্রতিধ্বনি, সুরের চাদর 

তুমি ছিলে, আমিও ছিলাম, 

তবু জমেনি আসর !

অকারণে লিখে যাওয়া দূর্বোধ্য কবিতা 

মূল্যবান শব্দ নিয়ে আলাপচারিতা 

বোঝা না বোঝার পালা সাঙ্গ হলে পরে 

মধ্য রাতের  নৈরাশ্য মাখা অন্ধকার ঘরে 

উষ্ণ রক্ত মাখা নগ্ন সহবাসে 

অদ্ভূত শান্তি নামে এ পরবাসে.

ঝরনা এসেছে সমতলে 

ঝরনা এসেছে সমতলে 

         – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

পাথরের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তা খুঁজে 

ভয়ে ভয়ে চলেছে নদীর দিকে -,

হারিয়ে গেছে উচ্ছলতা, হারিয়েছে জেদ, 

ঝরনা এসেছে সমতলে

ওই চ্যাপ্টা পাথরটায় বসে 

কি এক অচেনা সুর গুণগুণ করেছিলে,

হাতের চুড়ির  চূড় মূড় শব্দে সরিয়ে ছিলে 

উড়ো চুল কপাল থেকে,

ঝরনা এসেছে সমতলে

আমি বারন করেছিলাম সমতলে নামতে 

বলেছিলাম গতি হারানোর দুর্গতির কথা 

আরো বলেছিলাম –

“তোমার জল ঘোলা হয়ে যাবে 

ভেবে দেখো নয়তো পরে পস্তাবে “

জানতাম শুনবেনা কথা, শোনেওনি,

ঝরনা এসেছিলো  সমতলে

সব ঝরনাই জানে সব কথা 

সব ঝরনাই  পরে  পস্তায়

তবুও তারা সব হারানোর খেলা খেলে 

হুড়মুড় করে নেমে আসে সমতলে 

—————-