একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুনলাম তুমি ডিভোর্স নিচ্ছো, নাকি ডিভোর্স পেয়েই গেছো ? শুনলাম…. তবে কান পেতে শুনলাম, ছিঃ ছিঃক্কার শুনলাম, ফিশ ফিশ শুনলাম. আমি শুধু আমার শুভেচ্ছা সহ জানিয়ে রাখলাম : নিও, ডিভোর্স নিও, বারবার নিও, যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও. ডিভোর্সি মেয়েরা “মন্দ মেয়ে” হয়, জানো ? এক খুনেও ফাঁসি, দশ খুনেও ফাঁসি ! তাই বলি : যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও……. . 

রোধ ঝলমলে একটি হাশিমাখা দিনের জন্য, হাজার রাত পেরিয়ে যেও. ভয় নেই “মন্দ মেয়ে”, সব্বার কাছে মন্দ হওয়াটা, অতটা মন্দ কিছু নয় !

———–

Advertisements

পরের দিন 

পরের দিন 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমি মারা যাবার 

পরের দিন ও,

খবরের কাগজ বেরোবে 

পেপারওয়ালা কাগজ দিয়ে যাবে 

গ্রীলের ফাঁকে 

সেল ফোনে বেশ কিছু 

প্রোমো এস.এম.এস আসবে,

মিসড কল -ও থাকবে কিছু 

হয়ত 

পাড়ার মাতালটা 

সেদিন ও সস্তার মদ 

খেয়ে চিল্লাবে,

বিক্রিওয়ালা হাঁক দেবে 

“চাই কাগ……জ !”

সেদিন ও ছোট্ট মেয়েটা 

মা -এর হাত ধরে 

স্কুল থেকে ফিরবে ,

তার চিপস্ বা আইসক্রিমের

আবদারও থাকবে,

সেদিন -ও …..

সব থাকবে 

সব চলবে 

শুধু নিঝুম দুপুরে 

কাকটা কার্ণিশে বসে 

হয়তো ভৎসনা করবে –

“ছিঃ ! এই ভাবে 

চলে যেতে আছে ?!”

—-

এখনো ভালবাসো ?

এখনো ভালবাসো ?

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

এখনো আকাশের বুকে,

লেগে আছে কিছু জল ভরা মেঘ,

অভিমানের মতো.


সব মেঘ উড়িয়ে –

সব চিঠি পুড়িয়ে –

আয়নায় নিজেকে বলো

“এ এক নতুন আমি !”


সত্যি ? 

—–

আড়াই কাঠা আকাশ 

আড়াই কাঠা আকাশ 

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

সারাদিনের রক্ত ঘাম 

আর বেঁচে থাকার লড়াই 

কলের জলে ধুয়ে ফেলে 

আকাশ পানে চাই

আড়াই কাঠার জমির মালিক 

ভাবলিনা একবারো 

মাথার ওপর আড়াই কাঠা 

আকাশখানা তোর-ও !

—-

​পাপ যাদের ছোঁয়নি 

​পাপ যাদের ছোঁয়নি 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কার সাথে কার দেখা হয় -,

কার সাথে হয় বাড়াবাড়ি, 

কার সাথে ছায়া ছায়া প্রেম 

কার সাথে হয় ছাড়াছাড়ি ,


দৌড়ে গেলি, 

শান্তি পেলি ?

সুখ পেলি কি ? বল ,

যে সুখেতে তোর

মুখ পোড়ালি ,

তার কেমন মরণ ছল ?

যাদের হৃদয় সস্তা দরে 

বিকিয়ে গেলো হাটে 

তাদের শরীর মিলিয়ে গেলো 

পাপ মাখানো খাটে 


সোনার বরন স্নিগ্ধ আলো 

খানিক অসহায়

রোদ  জ্যোত্স্নার আড়াল দিয়ে 

হৃদয় ছুঁয়ে যায়

______