শ্মশান বারো মাস

শ্মশান বারো মাস

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কতো কিছু পাওয়া হোলো না ! 

বুক ভরে টাটকা বাতাস নেওয়া, পেট ভরে টাটকা খাবার খাওয়া, টাটকা ফল সবজি মিষ্টি চালের ভাত….., বড় বড় গাছেদের মাঝে দু দণ্ড দাড়ানো হোলো না. পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গা – নাহ্ , তাও হোলো না. আমার শহরে গাছ নেই, ঘাস নেই, ফুল নেই, পাখি নেই, হাসি নেই. আমার এখানে শ্মশান বারো মাস ! আমার এখানে মৃতদেহরা হাটে, কথা বলে, কাজ করে. চারিদিকে বিষের কুয়াশা – মাটিতে বিষ, বিষ জলে মনে রক্তে . মাঝে মাঝে দুঃস্বপ্ন দেখি,  আমার সন্তান জন্মেছে এই শ্মশানে ! সুস্থ সবল সন্তান ! তারপর ঘুম ভেঙ্গে যায় ….. ; নিশ্চিন্ত হই. 

*Photo: Kevin Carter, a South African photojournalist, won the Pulitzer Prize for this photograph in 1994 and committed suicide three months later. For many, that affirmed his guilt for not helping this Sudanese girl reach a feeding centre.

Advertisements

আঁধার

আঁধার 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কয়েকজন হিন্দু মিলে 

তোমার শিশু কন্যা কে 

ধর্ষন করেছে ?

তুমি এবার কি করবে ?

কিছু মুসলমান সাথী জুটিয়ে 

কোনো হিন্দু শিশু কন্যা কে 

ধর্ষন করবে ?

তোমার মেয়ের চোখের পানি 

আর হিন্দু মেয়ের চোখের জল 

আর রক্ত, আর ঘাম, 

আর মরা চোখ……

সব আলাদা আলাদা 

হিন্দুমুসলিম লেবেল মেরে 

সাজিয়ে রেখো,

শান্তি পাও ; 

নিথর নিস্তব্ধ শান্তি 

ঠিক ঝড়ের আগের মতো !

…………..

** Please note, criminals have no nationality, cast, creed, race or religion. They are just criminals. So treat crime and criminal in true perspective and stop a spark from becoming a wild fire. 

কৃষ্ণসার

কৃষ্ণসার

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমি যদি তোমার চেয়ে 

অনেক অনেক বেশী 

জনপ্রিয় হই, তাহলে 

আমি তোমায় খুন করলেও 

আমার কিসসু হবে না 

যদি তোমার ভাষা হয় 

দূর্বোধ্য, যদি তোমায় দেখতে হয় 

অন্য রকম, তাহলেও তোমায়

খুন করলে, আমার কিসসু হবে না 

কারণ ?

কৃষ্ণসার হরিণের তো 

কোটি কোটি ভক্ত নেই !

তার শেষ নিশ্বাষ ত্যাগের 

যারা সাক্ষী;  সেই গাছ, চাঁদ 

জোনাকি, অন্ধকার ও 

শনি মনসার ঝোপ – 

কোনো সাক্ষ্যই দেবেনা কখনো.

তাই আমি আরো কিছু 

সংলাপ বলে, শেষ হাততালিটাও 

কুড়িয়ে নেবো.

তুমি লুটিয়ে পরে থেকো 

ঝরা পাতার ওপর 

তারকাখচিত আকাশের নীচে !

——–

​অপ্রেম ডায়রি 4

​অপ্রেম ডায়রি 4

– সাম্যময় সেন গুপ্ত – 


যে সময়টি আমার কাছে “আজ”

পৃথিবীর অপর প্রান্তে, 

সেই সময়টিই “গতকাল”

অথএব, বুঝতেই পারছো –

আমার কাছে যা “এখনো”,

তোমার কাছে তা “ঘটে গেছে” ; 

দূরত্বে, সময়ের ব্যবধান ?

নাকি সময়ে, দূরত্বের ?

কৈফিয়ত চাইছি না -, 

আসলে কি জানো –

জীবনের সব অংকই 

মিলে যায়, শুধু …

উত্তরগুলো পছন্দ হয়না !

———-

​মৃগ নাভি

মৃগ নাভি 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –


নিশি রাত, কুঁড়ে ঘরের 

আঙ্গিনায় ঝুলন্ত লণ্ঠন,

দোল খায়

চঞ্চল বাতাসে,

বৃদ্ধ কোন কণ্ঠ 

ডেকে ওঠে “এ কাস্তুোরি !

কাস্তুোরি রে, কাহা গৈল বা !”

কোনো সারা নেই.

মিটি মিটি জোনাকি 

ভরা, ছমছমে আঁধার.

কোথায় গেলো কস্তুরি ?

দুরের জঙ্গলের সহিত 

মনের জঙ্গলের,

কি মিলন হইলো আজ ?

অন্ধকার মেখে দাড়িয়ে আছে 

তাল তমাল সার সার 

ঝিরি হাওয়া আবারো শুধায় 

“দোষ কার ? দোষ কার ?”

——

একলাটি

একলাটি 

  – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

অনেক লৌকিকতা হোলো 

অনেক সামাজিকতাও হোলো,

অনেক বার বলা হোলো –

আমি কেমন আছি,

অনেক মিষ্টির বাক্স নিয়ে 

যাওয়া হোলো, অনেকের বাড়ি,

অনেকখানি সময় হাসি হাসি মুখে 

শোনা হোলো গাধার ডাক -,

গম্ভীর মুখে মাথা দুলিয়ে 

সায় দেওয়া হোলো অনেকের মত -, 

এবার –

আর যেটুকু মেয়াদ আছে বাকি 

আর যেটুকু রয়েছে অবকাশ, 

দেখে নিতে দাও, ঘ্রাণ নিতে দাও,

আস্বাদ নিতে দাও, 

এই পৃথিবীর যা কিছু আমার.

কথা বলতে দাও খানিক 

নিজের সাথে 

নিজেকে নিয়েই তো চলে যাবো 

আর কিছু বর্ষা বসন্ত পরে 

মৃত্যু বড় নিস্তব্ধ নিথর, 

খানিক অভ্যাস করে নিতে দাও 

——-

​যারা সরলা 

​যারা সরলা 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –
সব মেয়েই বিয়ের পরে –
সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
প্রাক বিবাহ ইতিহাসের 
মুখাগ্নি করে, শ্রাদ্ধবাসরে 
চোখের জল ফেলে,
ত্রিবেণি সঙ্গমের ডুবশুদ্ধি যেন -,
সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
ইতিহাসের চরিত্রগুলো 
সমুদ্র আকাশের মিলন রেখায় 
ভাসতে থাকা ছিপনৌকোর মত 
খুদ্র থেকে আরো খুদ্রতোরো দেখায়
নতুন সংসারে তখন 
ঢেউএর গর্জন, বালি নিয়ে খেলা….
তবু মাঝে মাঝে ছিপনৌকোর দিকে 
চোখ চলে যায় তাদের –
যারা সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
—–

বিপদে আপদে

​- বিপদে আপদে –

          সাম্যময় সেন গুপ্ত 

সকাল নটা থেকে রাত নটা –
টাকা রোজগারের নিত্য খেলায়,
জীবন খরচ হয়ে যায়,
টাকা বেশীরভাগটাই থেকে যায় -,
কখন লাগে বিপদে আপদে,
বলা কি যায় !

কবে চলে যাবে, জানা নেই,
তাই সঞ্চয় নিরাপদ,
বাবা মরে যায়, ছেলে টাকা পায়,
কিন্তু তারও ভয় সেই বিপদ আপদ ! 

টাকাই শুধু অমর মৌচাক 
আর মৌমাছি মানুষ –
নাভি টুকুই অদাহ্য 
বাকিটা ছাই ভরা প্রশ্নচিন্হ !

বিদ্রুপ মাখা হাশি নিয়ে 
টাকা বেশীরভাগটাই থেকে যায়,
কখন লাগে বিপদে আপদে !
………..

একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুনলাম তুমি ডিভোর্স নিচ্ছো, নাকি ডিভোর্স পেয়েই গেছো ? শুনলাম…. তবে কান পেতে শুনলাম, ছিঃ ছিঃক্কার শুনলাম, ফিশ ফিশ শুনলাম. আমি শুধু আমার শুভেচ্ছা সহ জানিয়ে রাখলাম : নিও, ডিভোর্স নিও, বারবার নিও, যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও. ডিভোর্সি মেয়েরা “মন্দ মেয়ে” হয়, জানো ? এক খুনেও ফাঁসি, দশ খুনেও ফাঁসি ! তাই বলি : যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও……. . 

রোধ ঝলমলে একটি হাশিমাখা দিনের জন্য, হাজার রাত পেরিয়ে যেও. ভয় নেই “মন্দ মেয়ে”, সব্বার কাছে মন্দ হওয়াটা, অতটা মন্দ কিছু নয় !

———–

পরের দিন 

পরের দিন 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমি মারা যাবার 

পরের দিন ও,

খবরের কাগজ বেরোবে 

পেপারওয়ালা কাগজ দিয়ে যাবে 

গ্রীলের ফাঁকে 

সেল ফোনে বেশ কিছু 

প্রোমো এস.এম.এস আসবে,

মিসড কল -ও থাকবে কিছু 

হয়ত 

পাড়ার মাতালটা 

সেদিন ও সস্তার মদ 

খেয়ে চিল্লাবে,

বিক্রিওয়ালা হাঁক দেবে 

“চাই কাগ……জ !”

সেদিন ও ছোট্ট মেয়েটা 

মা -এর হাত ধরে 

স্কুল থেকে ফিরবে ,

তার চিপস্ বা আইসক্রিমের

আবদারও থাকবে,

সেদিন -ও …..

সব থাকবে 

সব চলবে 

শুধু নিঝুম দুপুরে 

কাকটা কার্ণিশে বসে 

হয়তো ভৎসনা করবে –

“ছিঃ ! এই ভাবে 

চলে যেতে আছে ?!”

—-