ভিজে যাওয়া 

ভিজে যাওয়া 

     -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

ভালবাসা কতো বৃষ্টি নিয়ে আসে …

বৃষ্টি কতো ভালবাসা নিয়ে আসে ….

_______

Advertisements

এ পরবাসে

এ পরবাসে 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

সব মেয়েই জানে, পুরুষের চোখেও দাঁত থাকে, জিব থাকে, ঠোঁট থাকে. অচেনা পুরুষকে তাড়াতাড়ি করে ভাই বলে, দাদা বলে, কাকা বলে….., সম্পর্কের পবিত্রতায় যদি চোখের  দাঁত জিব ঠোঁট ঢাকা থাকে, এই আশায়. ঢাকা থাকে কি ? আদৌ ? পুরুষের চোখেও দাঁত থাকে, জিব থাকে, ঠোঁট থাকে : সেই চোখে চোখ পরলে, বহু যুগের পরাজয়,  চোখ নামায়, মুখ ফেরায়, ওড়না দিয়ে বুক ঢাকে. নারী  জনম আড়ালে বেঁচে থাকা. পোশাকের আড়াল, লজ্জার আড়াল, কথার আড়াল, নিয়মের আড়াল, শাস্ত্রের আড়াল….. আঁতুড় ঘরের সিক্ত শীতল ছায়াঘনো আড়ালের পূর্ণ জীবন.  
——

আর ফিরবো না

আর ফিরবো না

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

যারা দরজার কড়া নাড়েনা, ফোন করে না, চিঠি লেখেনা, হোয়াটস অ্যাপ – এস এম এস – ফেসবুকেও ছোঁয়া দেয়না, তারা শুধুই ভাবনায় আসে. ভাবনায় বৃষ্টি হয় আর আমি ঝুপসি গাছের মতো ভিজি, ভাবনায় রোদ ওঠে, গাছের পাতায় হীরে মানিক  ………,  তারা শুধুই ভাবনায় আসে. কোন একদিন, ভাবনায় ডুবে গিয়ে, হাটতে হাটতে অনেক দুর চলে যাবো, আর ফিরবো না. পরিত্যক্ত রেল লাইন, অনেক দুর অবধি দেখা যায়, তারপর ঘাস আর জঙ্গল, আরো দুরে কুয়াশা মাখা আবছা টিলা …….., আর ফিরবো না. কিন্তু মজার ব্যাপারটা হলো, আমার চলে যাওয়াটা কেউ জানতেও পারবেনা, আড়ালে বলবে “উনি একটু অন্যমনষ্ক গোছের “.

_______

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ; অদরকারি কথা, অদরকারি মুখ, অদরকারি ঘটনা, অদরকারি জড়িয়ে ধরা, অদরকারি আদর, অদরকারি চুমু, অদরকারি চলে যাওয়া ও ফিরে আসা. মৃত্যু অবধি এই অদরকারির বোঝা বোয়ে বেড়ানো ! সেই জন্যেই কি মৃত্যুর আরেক নাম মুক্তি ?  এখন তো এমন অবস্থা হয়েছে, অদরকারির ভিড়ে, দরকারি কোন কিছু আর মনে জায়গাই পায়না. মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ………

প্রেম

প্রেম 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রেমের বড় তাড়া ছিল 

ফিরে যাবার

তাই 

এক মুহূর্তের আঁচড়ে 

অনন্তকাল দিয়ে গেল


অনন্তকাল ঝিনুকের আঁধারে 

জ্বালা জমাট বাধে –

তবেই না তা মুক্ত হয় !

———–

এখনও

​   এখনও

  -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

এখনও দুপুরগুলো 
তরুণীদের মতই উচ্ছল,
টক আমের বোঁটা ছেঁড়া 
কষ বেয়ে, যৌবনের গরল,
পর্দার আড়ালে 
সরল পাপের আমন্ত্রণ 

এখনও, অনেক চাদরে 
লেগে আছে রক্তাক্ত বিপ্লব,
অনেক জানালায় -
লেগে আছে স্বপ্নের ইস্তাহার 

গোলা পায়ড়ার দুপুর -
নষ্ট  দুপুর,
মিষ্টি দুপুর,
ছাদ-এ জলের ট্যাঙ্কের 
পেছনে ;  অনেক প্রমাণ ...... !

এখনও অনেক পথ বাকি 
তবুও তো চিঠি এলনা -,
আয়নায় চাঁদ ধরা গেলেও 
জ্যোতস্না এলো না  !

-----------

কাটলো ঘুড়ি

কাটলো ঘুড়ি

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

ওই কাটলো ঘুড়ি –

কাটলো ঘুড়ি, কাটলো ঘুড়ি –

কচি কাচার হুড়োহুড়ি 

কাটলো ঘুড়ি !


নীল আকাশে চোখ চলে যায়

ওই যে ঘুড়ি, ওই ভেসে যায় !

হাওয়ার কোলে, কেমন দোলে 

নামছে নীচে  অলস তালে –

কাটলো ঘুড়ি !


চল্লিশের মন্দ দিকে,

চুলের রেখা হচ্ছে ফিঁকে 

তবুও কেমন বুক ঢিব ঢিব 

নামছে ঘুড়ি, পরবে তো ঠিক ?

কাটলো ঘুড়ি !


কোথায় পরবে ? কাদের ছাদে ?

কিম্বা কোনো গাছের মাথায়

নানান রকম সম্ভাবনায় 

মন ভরে যায় উত্তেজনায়,

কাটলো ঘুড়ি !


কাগজ সুতোর  কতই বা দাম 

আকাশ কে রোজ বার্তা দিতাম 

রোদ মাখা ওই চিলতে কাগজ 

তার পেছনে ছুটছে  অবুঝ 

কাটলো ঘুড়ি !


নিজের ভেতর নিজেই ছুটি 

বৃথাই করি অবুঝপনা 

ওই ঘুড়ি আর আমার তো নয় 

ধরতে মানা, ধরতে মানা 

কাটলো ঘুড়ি !

———

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুকনো পাতায় ভরা জীর্ন ঘর 

চার দেয়ালে চার অধ্যায় টাঙানো পরপর, 

আসিও সংগোপনে

বিছানায় এক ফালি আলাপি রোদ্দুর 

জানালার পর্দায় বাতাসের সুর,

প্রিয়তমা আসিও সংগোপনে 

——

প্রেম ছত্রাক  ( 30 )

প্রেম ছত্রাক  ( 30 )

      -সাম্যময় সেন গুপ্ত-


তোমার প্রিয় সময়টাতে

পরলো মনে তোমার কথা 

হৃদয় বীণায় উঠলো বেজে 

অপার্থিব নিরবতা 

রাতের বুকে মুখটি গুজে 

দিন হারাবে মনের সুখে 

সাঁঝের আবির মাখিয়ে দিলাম 

লজ্জা রাঙ্গা তোমার মুখে 

——–

তোমায় ভেবে 

তোমায় ভেবে 

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


আমার রুমালে কলকাতা লেগে আছে , 

ডান কাঁধেতে তোমার নখের দাগ ,

তোমার ঠোঁটের পায়ড়ারা বিদ্ধস্ত –

পরে আছে ওই গ্রাউন্ড জিরো-এ, এলোমেলো খাট


কাঁটাতার বেড়া, তারই নিচে খুড়ে মাটি

স্বাধীনতা আমি পাচার করেছি রোজ, 

তোমার খাঁজে খাঁজে মাদক কোকেন নেশা ,

শহরের সাথে শরীরী এক্সট্রা ডোজ


লালসায় লাল, কামনায় নীল, আর 

ডায়রিতে, আবছা ধুসর আমি ;

বন্দর ছেড়ে ওই রওনা দিলো এই জাহাজ,

ভালো থেকো মেয়ে, এই শহরটা তোমারি !

————-