অপ্রেম ডায়রি  ( 3 )

অপ্রেম ডায়রি ( 3 )

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

তুমি কি আমায় চেনো ? দেখেছো আগে ?

যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একসাথে বলে “না বাপু, তোমায় আমরা চিনিনা কেউ !”, তখন আমি কি করবো ? কেমন করে পালাবো বুকের সেই শূন্য শীতলতার থেকে দুরে ? তাই বলি কি, যারা তোমায় চেনে আর চিনেছে খানিক, তাদের একটু খোঁজ খবর নিও. তারা খুব দামি, তাদের উষ্ণ উপস্থিতি বড় মুল্যবান. আমিও বুঝিনি আগে, নীল আকাশ, পাহাড়, সমুদ্র, ফুলের রাশি …….., এসব তুচ্ছ, হৃদয়হীন. এই পৃথিবীর  সব চেয়ে দামি ওই ধুক পুক করা হৃদয় আর হৃদয়ের উষ্ণতা.

_______

অপ্রেম ডায়েরি (2)

অপ্রেম ডায়েরি (2)

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কবে বেড়াতে যাব কেউ জানেনা. আমিও না. জামা কাপড় ফোন টুথ ব্রাশ এমনকি চশমা টাও ফেলে যাব. আমার হাত পা মাথা যৌনাংগো সপ্ন হৃদয় এমনকি মনটাও ফেলে রেখে বেড়াতে যাব. বেশ হাল্কা লাগবে নিজেকে. তখন বুঝব, আমার আদপে কোনো ওজনই ছিলোনা কখনো ! তবুও ভেসে বেড়াতে পারিনি …… .

……………

অপ্রেম ডায়েরি (1)

অপ্রেম ডায়েরি (1)

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কাঁচ ভেঙ্গে গেলে খুব সুন্দর করে ঝাঁট দেওয়া যায়. দেখ মেঝেটা এখন একদম পরিষ্কার. কাঁচ ভাঙ্গার আওয়াজ টুকু শুধু কানে লেগে আছে আজও. পরষ্পরের দেখা হলে, ওই পরিষ্কার মেঝেটাই দেখাবো তোমায়. ভাঙ্গা কাঁচ পায়ে ফোটেনি, তাই রক্তপাতও হয়নি. খুব বেঁচে গেছি, বলো ?! শুধু ওই আওয়াজ টুকু …….. .

……………..

কালো মেয়ের রাত 

কালো মেয়ের রাত 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আজ রাত বড় নরম 

লাজুক তারায় ভরা —

কালো আকাশ ওড়না গায়ে ,

দুষ্টু, মিষ্টি, অধরা

          টিপ পরনি কালো মেয়ে  ?

           পরলে ভালো দ্যাখায় —-,

           শুধু নিশুত রাতে সেজো মেয়ে,

            নইলে সবাই তাকায় !

এসো মেয়ে বাইরে এসো 

রাত যে বড় একা 

গোপন করে হোকনা তোমায়

নতুন করে দ্যাখা !

          আজ রাতে মেয়ে ঘুমিয়ো নাকো

           বইছে দামাল হাওয়া,

            আরশিতে চাঁদ রেখো ধরে 

            তবেই আকাশ পাওয়া 

 ——-

পুরুষ

পুরুষ

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কোনো পুরুষ সাপের মতো 

এঁকেবেঁকে চায়

কোনো পুরুষ বাঘের মতো

হালুম করে খায়

কোনো পুরুষ হ্যাংলা বেড়াল 

চুপিচুপি খায়

কোনো পুরুষ লেজ নাড়ে 

যদি কিছু পায়

———

প্রেম ছত্রাক ( 20 )

প্রেম ছত্রাক ( 20 )

 -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

দুপুর রোদ পিঠে নিয়ে 

শীতের ছাদে আচার দিয়ে 

টক ঝাল ঝাল সময় মাখা 

মেয়েবেলার ভয় 

এমন করে বোকার মতো 

বড় কেউ হয় ?!

বড় হলেই মজা মাটি 

সব কিছু নয় ছয়

——–

প্রেম  ছত্রাক ( 41 )

প্রেম  ছত্রাক ( 41 )

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রেম বিন্যাস করতে বসে 

কালো মেঘের আনাগোনা 

বাজ পরে ওই ঝলসে গেল 

চোদ্দ আনা , চোদ্দ আনা !

টুপ টুপ টুপ টাপুর টুপুর 

বৃষ্টি নয়গো, অশ্রুকণা 

চিলেকোঠায় হারিয়ে গেল 

চোদ্দ আনা , চোদ্দ আনা !

——-

এসো 

প্রেম ছত্রাক ( 32 ) / 

এসো

       – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুকনো পাতা মাড়িয়ে এসো

নিজেকে আজ হারিয়ে এসো

অতীত আঁধার পুড়িয়ে এসো

বকুল ঘ্রাণে মাখিয়ে এসো

রাতগুলোকেও তাড়িয়ে এসো

স্বপ্ন আবির রাঙ্গিয়ে এসো

চৈত্র শেষে অল্প সেজে 

শুকনো পাতা মাড়িয়ে  এসো 

——

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি

​প্রেম ছত্রাক ( 31 ) / 

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

নিঃসঙ্গতা একটা অসুখ 

তুমি চলে গেলে বাড়ে,

সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত 

চারবেলাই অন্ধকারে 

মনের বাঘ, মন কে খায়

দেহের বাঘ মানুষখেকো 

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি 

আজ তারা চন্দ্রাহত ! 

———-

জমেনি আসর

জমেনি আসর

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

দুধ সাদা ঘাসে 

                নীল শাড়ি মাখা 

কিশোরী মনে, তরুণী দেহে 

               যুবতীর শুয়ে থাকা 

দরজা জানালা খোলা কল্পনার ঘর 

মধ্য রাতে হানা দেয় চাঁদনী ধোয়া ঝড় 

হায়, ঠুমরি ছিলো, দাদরা ছিলো, 

তবু জমেনি আসর !

আঁতোরের গন্ধ মাখা 

                   রূপের হেয়ালি 

চোখের ওই ঝাড়বাতিতে 

                  আলোর দেয়ালি,

তবলা বায়া সারেঙ্গিতে সবাই বিভোর 

  নিস্তব্ধ প্রতিধ্বনি, সুরের চাদর 

তুমি ছিলে, আমিও ছিলাম, 

তবু জমেনি আসর !

অকারণে লিখে যাওয়া দূর্বোধ্য কবিতা 

মূল্যবান শব্দ নিয়ে আলাপচারিতা 

বোঝা না বোঝার পালা সাঙ্গ হলে পরে 

মধ্য রাতের  নৈরাশ্য মাখা অন্ধকার ঘরে 

উষ্ণ রক্ত মাখা নগ্ন সহবাসে 

অদ্ভূত শান্তি নামে এ পরবাসে.