​বিক্রম – সনিকা 

​বিক্রম – সনিকা 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


রাত মাখা রাস্তায় 

উল্কা গতি ধাবমান গাড়ি 

গাড়ির ভেতর 

একজন সুন্দরি, একজন সুপুরুষ 

খানিক অন্ধকার, খানিক ভাললাগা,

খানিকটা নেশা, খানিক কুয়াশা 
এই সবই গাড়িটার 

সামনের সিটের কথা 

পেছনের সিট সহ অর্ধেকটা 

অনেকটাই পেছনে, বহু দুরে,

বহু মাইল দুরে, সুদুর অতীতে 
সেই সিট আলো মাখা, 

সিটে ছরানো লাজুক হাসি 

বাঁধো  বাঁধো চিঠি, প্রথম চুম্বন শিহরন 

স্থির ভালবাসা, আর স্নিগ্ধ প্রেম 
অর্ধেক গাড়ি, ধাবমান গাড়ি 

খাদে গিয়ে পরে, 

এখন চারিদিকে শুধুই দেখি 

অর্ধেক গাড়ি, অর্ধেক জীবন,

অর্ধেক হৃদয়, অর্ধেক মানুষ…..,
বাকি অর্ধেক গাড়ি পরে থাকে 

কালি ঝুলি মেখে, “আগেকার দিনে”
————–

News:

Accident kills Model, injures Tv Actor

Advertisements

নিতান্তই মামুলি 

নিতান্তই মামুলি 

      –  সাম্যময় সেন গুপ্ত  –

ভদ্রলোক আমার কাছে দুহাজার টাকার নোটের খুচরো চাইলেন. আমার কাছে ছিলো কিন্তু দিলাম না. ভদ্র ভাবে স্মিত হেসে  আক্ষেপের ভঙ্গিতে বললাম “সরি, নেই “. ভদ্রলোক বিমর্ষ ভাবে প্রায় স্বগতোক্তি করলেন “ছেলেটা হসপিটালাইসড ………, ওষুধটা তো লাগবেই ……. “. 

তারপর  গরমের সেই নিঝুম দুপুরে পর পর কয়েকটি ঘটনা  ঘটলো. খবরের কাগজে বেরোয়নি. 

-আমি লজ্জিত হলাম

-আমার মধ্যে অপরাধ বোধ এল 

-আমার ভদ্রলোকের জন্য কষ্ট হল 

-আমি ওনার টাকা ভাঙ্গিয়ে দিলাম 

-মনে মনে চাইলাম – ওনার ছেলে যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে 

একজন মানুষের দুঃক্ষ আরেকজন কে ছুঁয়ে গেলো, কেউ জানল না. একের আনন্দ অন্য কে না ছুঁলেও দুঃক্ষ কিন্তু ছোঁয়. আমরা সব্বাই একে অন্যের সাথে দুঃখের সুতোএ বাঁধা পরে থাকি. অপরিচিতের দিকে হাত বাড়ানোয় সুখ, অপরিচিতের হাত ধরায় সুখ. 

সেই দুপুরের রাগি রোদ্দুরটা , রাস্তার পিচ গলিয়ে, ওনাকে আমাকে গলিয়ে, এক দারুণ উত্তেজনায় ছাতিম গাছের পাতায় শেষ বেলার  নরম লাজুক মেয়েটি হয়ে থিরি থিরি কাঁপছিলো.

———–

মূল্য আপেক্ষিক 

মূল্য আপেক্ষিক 

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রজাপতির কাছে ফুল –

কবিতা নয়,

কবিতা নয় নারি ,

ধর্ষকের কাছে,

একশো পাঁচশোর নোটে, 

বাপুজির হাসি  মূল্যহীন, 

মূল্যহীন হয় দামি শাড়ি 

কুশ্রী  নারির  অঙ্গে,

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি 

আর আমি যদি না হই 

তোমার রূপে মুগ্ধ,

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি –

আর তুমি যতটা বোঝাও 

আমি তার সিকিভাগ বুঝি 

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

বোঝা গেলো সুন্দরী  ?

কাজেই, ঝিরিঝিরি বাতাশে 

বাগানের ফুল হয়ে দুলে যাও,

দুলে যাও….., দুলে যাও…..,

ঝরে যাওয়ার আগে !

________

​​অসুখ 

অসুখ 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমার এক অদ্ভুত অসুখ হয়েছে. চিকেন কারি দিয়ে ভাত মেখে খাওয়ার সময় মনে পরে যায় টিভিতে দেখা উড়িষ্যার আদিবাসীদের খিদের জ্বালায় গাছের শিকড় সিদ্ধ করে খাওয়া. দামি আইসক্রিম  মুখে গলতে থাকে আর মনে পরে যায় বহু বছর আগে তোলা ছবি, ভিখিরি বাবার কোলে ভিখিরি বাচ্চার মুখটা. এক মাথা ময়লা চুল, কালো টলটলে মুখ, বড়ো বড়ো চোখ. বঞ্চিতদের কথা মনে পরে যাওয়া তো বড় সোজা অসুখ নয় ! অসুখ না বলে ন্যাকামিও বলা যায়. কে যেন কানে ফিস  ফিস করে বললো – শালা কমিউনিজম মারাচ্ছো ? 

তাই চুপচাপ থাকি, দামি হুইস্কিতে চুমুক দিই আর গোপন অসুখ নিয়ে ঘর করি.

_______ 

অপ্রেম ডায়রি  ( 3 )

অপ্রেম ডায়রি ( 3 )

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

তুমি কি আমায় চেনো ? দেখেছো আগে ?

যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একসাথে বলে “না বাপু, তোমায় আমরা চিনিনা কেউ !”, তখন আমি কি করবো ? কেমন করে পালাবো বুকের সেই শূন্য শীতলতার থেকে দুরে ? তাই বলি কি, যারা তোমায় চেনে আর চিনেছে খানিক, তাদের একটু খোঁজ খবর নিও. তারা খুব দামি, তাদের উষ্ণ উপস্থিতি বড় মুল্যবান. আমিও বুঝিনি আগে, নীল আকাশ, পাহাড়, সমুদ্র, ফুলের রাশি …….., এসব তুচ্ছ, হৃদয়হীন. এই পৃথিবীর  সব চেয়ে দামি ওই ধুক পুক করা হৃদয় আর হৃদয়ের উষ্ণতা.

_______

অপ্রেম ডায়েরি (2)

অপ্রেম ডায়েরি (2)

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কবে বেড়াতে যাব কেউ জানেনা. আমিও না. জামা কাপড় ফোন টুথ ব্রাশ এমনকি চশমা টাও ফেলে যাব. আমার হাত পা মাথা যৌনাংগো সপ্ন হৃদয় এমনকি মনটাও ফেলে রেখে বেড়াতে যাব. বেশ হাল্কা লাগবে নিজেকে. তখন বুঝব, আমার আদপে কোনো ওজনই ছিলোনা কখনো ! তবুও ভেসে বেড়াতে পারিনি …… .

……………

অপ্রেম ডায়েরি (1)

অপ্রেম ডায়েরি (1)

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কাঁচ ভেঙ্গে গেলে খুব সুন্দর করে ঝাঁট দেওয়া যায়. দেখ মেঝেটা এখন একদম পরিষ্কার. কাঁচ ভাঙ্গার আওয়াজ টুকু শুধু কানে লেগে আছে আজও. পরষ্পরের দেখা হলে, ওই পরিষ্কার মেঝেটাই দেখাবো তোমায়. ভাঙ্গা কাঁচ পায়ে ফোটেনি, তাই রক্তপাতও হয়নি. খুব বেঁচে গেছি, বলো ?! শুধু ওই আওয়াজ টুকু …….. .

……………..

কালো মেয়ের রাত 

কালো মেয়ের রাত 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আজ রাত বড় নরম 

লাজুক তারায় ভরা —

কালো আকাশ ওড়না গায়ে ,

দুষ্টু, মিষ্টি, অধরা

          টিপ পরনি কালো মেয়ে  ?

           পরলে ভালো দ্যাখায় —-,

           শুধু নিশুত রাতে সেজো মেয়ে,

            নইলে সবাই তাকায় !

এসো মেয়ে বাইরে এসো 

রাত যে বড় একা 

গোপন করে হোকনা তোমায়

নতুন করে দ্যাখা !

          আজ রাতে মেয়ে ঘুমিয়ো নাকো

           বইছে দামাল হাওয়া,

            আরশিতে চাঁদ রেখো ধরে 

            তবেই আকাশ পাওয়া 

 ——-

পুরুষ

পুরুষ

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কোনো পুরুষ সাপের মতো 

এঁকেবেঁকে চায়

কোনো পুরুষ বাঘের মতো

হালুম করে খায়

কোনো পুরুষ হ্যাংলা বেড়াল 

চুপিচুপি খায়

কোনো পুরুষ লেজ নাড়ে 

যদি কিছু পায়

———

প্রেম ছত্রাক ( 20 )

প্রেম ছত্রাক ( 20 )

 -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

দুপুর রোদ পিঠে নিয়ে 

শীতের ছাদে আচার দিয়ে 

টক ঝাল ঝাল সময় মাখা 

মেয়েবেলার ভয় 

এমন করে বোকার মতো 

বড় কেউ হয় ?!

বড় হলেই মজা মাটি 

সব কিছু নয় ছয়

——–