সেই আকাশ 

সেই আকাশ 

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

ছোটবেলার আকাশে 

মা মরলে তারা হয় 

বাবা মরলে তারা হয় …..,

বড়বেলার আকাশে –

কেউ কিছু হয় না


বড়বেলার আকাশ শুধু 

মনখারাপের মেঘে ভরা,


কখনো তোমার মেঘে 

আমার পাড়ায় বৃষ্টি,

কখনো  আমার মেঘে 

তোমার পাড়ায়

———-

​বিক্রম – সনিকা 

​বিক্রম – সনিকা 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


রাত মাখা রাস্তায় 

উল্কা গতি ধাবমান গাড়ি 

গাড়ির ভেতর 

একজন সুন্দরি, একজন সুপুরুষ 

খানিক অন্ধকার, খানিক ভাললাগা,

খানিকটা নেশা, খানিক কুয়াশা 
এই সবই গাড়িটার 

সামনের সিটের কথা 

পেছনের সিট সহ অর্ধেকটা 

অনেকটাই পেছনে, বহু দুরে,

বহু মাইল দুরে, সুদুর অতীতে 
সেই সিট আলো মাখা, 

সিটে ছরানো লাজুক হাসি 

বাঁধো  বাঁধো চিঠি, প্রথম চুম্বন শিহরন 

স্থির ভালবাসা, আর স্নিগ্ধ প্রেম 
অর্ধেক গাড়ি, ধাবমান গাড়ি 

খাদে গিয়ে পরে, 

এখন চারিদিকে শুধুই দেখি 

অর্ধেক গাড়ি, অর্ধেক জীবন,

অর্ধেক হৃদয়, অর্ধেক মানুষ…..,
বাকি অর্ধেক গাড়ি পরে থাকে 

কালি ঝুলি মেখে, “আগেকার দিনে”
————–

News:

Accident kills Model, injures Tv Actor

অপ্রেম ডায়েরি (2)

অপ্রেম ডায়েরি (2)

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কবে বেড়াতে যাব কেউ জানেনা. আমিও না. জামা কাপড় ফোন টুথ ব্রাশ এমনকি চশমা টাও ফেলে যাব. আমার হাত পা মাথা যৌনাংগো সপ্ন হৃদয় এমনকি মনটাও ফেলে রেখে বেড়াতে যাব. বেশ হাল্কা লাগবে নিজেকে. তখন বুঝব, আমার আদপে কোনো ওজনই ছিলোনা কখনো ! তবুও ভেসে বেড়াতে পারিনি …… .

……………

​অচল পাঁচশো অচল হাজার

​অচল পাঁচশো, অচল হাজার

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

হাতের টাকা পাঁচশো হাজার,
এক রাতেই কাগজ 

এতে অবাক হওয়ার নেই কিছু 

এমনই তো হয় রোজ !
কথায় বলে – আজ আছে 

কাল নেই, একেবারেই নেই 

তবুও সব ভুলে, ছুটছো, লড়ছো,

বলছো…., তবুও তুমি, যেই কে সেই 
হাতেই তো থাকে প্রিয়জনের হাত,

তবুও কি ধরা  যায় ?

“সারা জীবন থাকবো পাশে”

বলেও তো খনিকে হারায় !
তোমার বুকের স্বপ্নগুলো,
তাদের কথাও বলতে হয়, 

টের কি পেলে একে একে 

কখন তারা  যে শুকায় ?
আজ যে চলে, কাল সে অচল 

আজ যে আপন, কাল সে পর…,

তোমায় ঘিরে চলছে ম্যাজিক

আর তুমি ? 

আঁকড়ে রয়েছো নিজের ঘর !!

————–

ভয় .

ভয় 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

উঠতি মস্তান কে ভয়

চ্যাংড়া ছোড়াদের ভয় 

পুলিশ কে ভয়

কোর্ট কাছারি কে ভয়

হাসপাতাল কে ভয়

আক্সিডেনট  কে ভয়

আপিসের বস কে ভয়

অপমান কে ভয়

অসুখ কে ভয়

অপারেশন কে ভয়

নেতা কে ভয় 

ক্যানসার কে ভয়

এডস কে ভয়

দারিদ্র কে ভয়

চাকরি হারাবার ভয় 

ফেল করার ভয় 

নরকের ভয় 

প্রিয়জনের মারা যাবার ভয় 

আতঙ্কবাদীর ভয় 

নাশকতার ভয় 

বড় বড় খরচের ভয় 

ভালবাসা হারানোর ভয় 

জমার  শুদের হাড় কমার ভয় 

ধারের শুদের হাড় বাড়ার  ভয় 

অনলাইন ফ্রড আর হ্যাকিং এর ভয় 

ডিমোশনের ভয় 

কমপালসারি ওয়েটিং-কে ভয় 

শেয়ার মার্কেট পড়ার ভয় 

মাথার চুল ওঠার ভয় 

পকেটমারের ভয় 

বাড়ির চাবি হারাবার ভয় 

সন্তান বিপথে যাবার ভয় 

স্ত্রী অসতী হবার ভয় 

স্বামি পর হওয়ার ভয় 

ডিভোর্স কে ভয় 

ধ্বজভঙ্গ -এর ভয় 

ধর্ষনের ভয় 

ভুমিকম্পের ভয় 

আর অবশ্যই…..

মৃত্যু ভয় !


এই এত সব ভয় নিয়ে

যারা বেঁচে থাকে  

তাদের জীবন আলোয় ভরুক

পথের বাঁকে বাঁকে  

…………..

প্রথম….. .

প্রথম…..

-সাম্যময় সেন গুপ্ত –
প্রথম চুম্বনে খানিকটা 

বিষ থাকে 

এক অধর থেকে  আর এক অধরে 

যায়, হৃদয় পোড়ায় …………,
সেই পোড়া দাগ, 

সেই হালকা জ্বালা জ্বালা ভাব,

তাও একদিন জুড়ায় —,
তোমার ছাইতে যখন গঙ্গাজল পরে, 

অল্প কিছুটা বাষ্প উঠে  আকাশে মিলায়,

কানা মন শুধু 

আঁধপোড়া নাভির দিকে চেয়ে বলে – 

ভালো তো বেসেছিলাম, বাসিনি বল ? 

পার্থিব গলা শুধু  টেনে টেনে বলে —

“বলো হরি, হরি বোল !”
————-

বিজ্ঞাপন ;  জীবন 

বিজ্ঞাপন ;  জীবন 

    -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

বলেছিল ” জিগ্গেস না করলে 
ঝিংগালালা হবে কি করে !”
বলেছিল “প্রেমিকা আসবে,
স্যান্ডো গেঞ্জির হাত ধরে”

বুঝিয়েছিল “বিশেষ ফর্মুলার প্রয়োজন 
তবেই হাসবে কমোড, হাসবে কাপড় 
মলমে ফর্শা, কালো মেয়ে 
পাবে মনের মত বর

জানিয়েছিল “সততা মানে সাবান 
আর আত্মবিশ্বাস থাকে জুতোয়
বৌ-এর মুখে হাসি ফোটাতে 
একটি বিশেষ ট্যাবলেট খেতে হয়”

ছেলেটি জিগ্গেস করেছিল
কিণ্তু জীবন ঝিংগালালা হয়নি 
দড়ির ফাঁস খুলে লাস নামানো হলেও 
কোনো নোট পাওয়া যায় নি

সে taller sharper stronger হয়েও 
পিছিয়ে পরেছিল 
পিছিয়ে পরতে,  পরতে, পরতে, পরতে
সে ভিড়ের অতলে তলিয়ে ছিল
…………..

অন্য অভিজ্ঞতা

​অন্য অভিজ্ঞতা   

         -সাম্যময় সেন গুপ্ত-  
মাথার ওপর বিশ্বস্ত পাখা ঘুরছে  

এক ঘেয়ে শন্ শন্ শব্দের স্বাচ্ছন্দ…,

 

অপরিচিত নিশুতি রাত  

খাটের চারপাশে কতগুলো মানুষ –, 

আমার আপনজনেরা ।
ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখছেন –  

মগজের ক্যালকুলেটর-এর বোতাম টিপছেন  

একাগ্র চিত্তে ,  

এরপর আলাপ হবে ব্যবসায়ীদের সাথে-  

তারা, অফুরন্ত বাতাসের খানিকটা  

আলাদা করে আমায় দেবেন,   

কখন দেবেন তাজা রক্ত ,   

আমার প্রতি নিশ্বাসে ও শেষ নিশ্বাসে   

প্রত্যক্ষ ভাবে টিকে থাকবে কিছু সংসার !
এ এক সুখানুভূতি , অন্য অভিজ্ঞতা ।

……….

নাড়ির টান

নাড়ির টান  
   -সাম্যময় সেন গুপ্ত- 

কোন ঘুম ঘুম দুপুরের আলস্যে, কাকগুলো  
যখন বিশ্রাম নেয়। 
তখন আমার
ঘরের আসবাবগুলো কথা বলে। 
ভাঙা খাট, রঙচটা আলমারি, ড্রেসিংটেবিল  
অনেক বছরের গোপন ধুলো ঝেড়ে  
স্মৃতির ফিনফিনে মশারি সরিয়ে  
সরব হয়।  
জন্ম, মৃত্য, বিবাহ, যৌন ও গৌণ ক্রিয়াকলাপ 
সবই দেখেছে তারা। 
তাদের সারা গায়ে ছড়িয়ে আছে
প্রিয় স্পর্শ ।  

একটা রক্ত মাংসের মানুষ ও আসবাবগুলো  
পারষ্পারিক রক্তের টান অনুভব করে   
স্বস্তি পায়।       

………………..

The Day We Died

                                                                                                                                                                       The Day We Died                                                                                                                                                             -Samyamoy Sen Gupta-    
  
Long ago

We made friendship with a bird  
After  a day’s hunting,
we used to sleep in our caves, 
Morning used to step in,
on the wings of the bird 
singing songs of Life .  

In far future

We will make friendship with a man  
After a day’s hunting, 
We will hunt in our dreams.  
Night will remain 
in our warm soul 
singing songs of Demise. 
 
“Do you know when we died ?
We Died In Between !”.  

————