আমি পালিয়ে বেড়াই

আমি পালিয়ে বেড়াই 
       – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমি পালিয়ে বেড়াই ভাবনাগুলোকে 
প্রশ্রয় না দিয়ে 
আমি পালিয়ে বেড়াই ভাবনাগুলোকে 
আমার সাথে নিয়ে

মাথা ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ফেলতে যে চাই 
দুরন্ত চিন্তাগুলো 
মাথা জুড়ে ভিড় করেছে তোমার 
টুকরো স্মৃতিগুলো 
আমি পালিয়ে বেড়াই, পালিয়ে এড়াই 
বাঁচার  ইচ্ছেটাকে 
আমার ইচ্ছেগুলো জড়িয়ে আছে 
তোমার দেহটাকে 
আমি হাটতে হাটতে, হাটতে হাটতে
ক্লান্ত হতে চাই 
ক্লান্ত হয়ে, ভাবনা পেরিয়ে 
ঘুমের দেশে যাই 
সপ্নে দেখি ভোর এসেছে 
আলতো আলতা পায়ে 
তোমার মতই হাসছে সে ভোর 
কুয়াশা শাড়ি গায়ে 
আমি পালিয়ে বেড়াই, পালিয়ে হারাই 
আমার বেঁচে থাকার কারন 
দেখি সামনে তুমি দাড়িয়ে আছো 
তোমার কাছে যাওয়া বারণ 
আমি তোমার বাড়ি যেতে গিয়ে 
আমার বাড়ি যাই 
আমি আমার বাড়ি খুঁজতে গিয়ে 
ঠিকানা হারাই 
আমি ভোরের সাথে ঝগড়া করে 
রাতের কাছে যাই 
আবার মধ্য রাতে একলা আমি 
ভোরের সঙ্গ চাই

আমি পালাতে পালাতে হারাতে হারাতে 
ক্লান্ত হয়ে গেছি 
তোমার দরজা খুলে দেখো, আমি 
আর একবার এসেছি 

………….

Advertisements

নিজস্ব তাজমহল

নিজস্ব তাজমহল      
    -সাম্যময় সেন গুপ্ত-       
 
একজন মানুষ তাজমহল গড়েছিল,   
একা একা – কেউ জানতে পারেনি,   
সে একটা একটা করে
পাথর বসিয়ে…  
পালিশ করে…,
গড়েছিল তাঁর প্রাণের তাজমহল,  
কেউ দেখেনি। দেখেছিল শুধু সেই    
ঘামে ভেজা নোনা স্বাদের ভালবাসা মোড়া দিনগুলো।

তারপর,     
একদিন সেই মানুষটার তাজমহল মরে গেল   
কেউ জানল না।  
সে একটা একটা করে
পাথর সরিয়ে  
তাজমহলের অস্তিত্ব মুছে দিল,
তাঁর প্রাণের তাজমহল  
কেউ দেখল না, দেখল শুধু   
জলে ভেজা নোনা স্বাদের
শূণ্যতায় মোড়া দিনগুলো।   
……………