আর ফিরবো না

আর ফিরবো না

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

যারা দরজার কড়া নাড়েনা, ফোন করে না, চিঠি লেখেনা, হোয়াটস অ্যাপ – এস এম এস – ফেসবুকেও ছোঁয়া দেয়না, তারা শুধুই ভাবনায় আসে. ভাবনায় বৃষ্টি হয় আর আমি ঝুপসি গাছের মতো ভিজি, ভাবনায় রোদ ওঠে, গাছের পাতায় হীরে মানিক  ………,  তারা শুধুই ভাবনায় আসে. কোন একদিন, ভাবনায় ডুবে গিয়ে, হাটতে হাটতে অনেক দুর চলে যাবো, আর ফিরবো না. পরিত্যক্ত রেল লাইন, অনেক দুর অবধি দেখা যায়, তারপর ঘাস আর জঙ্গল, আরো দুরে কুয়াশা মাখা আবছা টিলা …….., আর ফিরবো না. কিন্তু মজার ব্যাপারটা হলো, আমার চলে যাওয়াটা কেউ জানতেও পারবেনা, আড়ালে বলবে “উনি একটু অন্যমনষ্ক গোছের “.

_______

Advertisements

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ; অদরকারি কথা, অদরকারি মুখ, অদরকারি ঘটনা, অদরকারি জড়িয়ে ধরা, অদরকারি আদর, অদরকারি চুমু, অদরকারি চলে যাওয়া ও ফিরে আসা. মৃত্যু অবধি এই অদরকারির বোঝা বোয়ে বেড়ানো ! সেই জন্যেই কি মৃত্যুর আরেক নাম মুক্তি ?  এখন তো এমন অবস্থা হয়েছে, অদরকারির ভিড়ে, দরকারি কোন কিছু আর মনে জায়গাই পায়না. মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ………

প্রেম

প্রেম 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রেমের বড় তাড়া ছিল 

ফিরে যাবার

তাই 

এক মুহূর্তের আঁচড়ে 

অনন্তকাল দিয়ে গেল


অনন্তকাল ঝিনুকের আঁধারে 

জ্বালা জমাট বাধে –

তবেই না তা মুক্ত হয় !

———–

অপ্রেম ডায়েরি (1)

অপ্রেম ডায়েরি (1)

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কাঁচ ভেঙ্গে গেলে খুব সুন্দর করে ঝাঁট দেওয়া যায়. দেখ মেঝেটা এখন একদম পরিষ্কার. কাঁচ ভাঙ্গার আওয়াজ টুকু শুধু কানে লেগে আছে আজও. পরষ্পরের দেখা হলে, ওই পরিষ্কার মেঝেটাই দেখাবো তোমায়. ভাঙ্গা কাঁচ পায়ে ফোটেনি, তাই রক্তপাতও হয়নি. খুব বেঁচে গেছি, বলো ?! শুধু ওই আওয়াজ টুকু …….. .

……………..

ঝরনা এসেছে সমতলে 

ঝরনা এসেছে সমতলে 

         – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

পাথরের ফাঁকে ফাঁকে রাস্তা খুঁজে 

ভয়ে ভয়ে চলেছে নদীর দিকে -,

হারিয়ে গেছে উচ্ছলতা, হারিয়েছে জেদ, 

ঝরনা এসেছে সমতলে

ওই চ্যাপ্টা পাথরটায় বসে 

কি এক অচেনা সুর গুণগুণ করেছিলে,

হাতের চুড়ির  চূড় মূড় শব্দে সরিয়ে ছিলে 

উড়ো চুল কপাল থেকে,

ঝরনা এসেছে সমতলে

আমি বারন করেছিলাম সমতলে নামতে 

বলেছিলাম গতি হারানোর দুর্গতির কথা 

আরো বলেছিলাম –

“তোমার জল ঘোলা হয়ে যাবে 

ভেবে দেখো নয়তো পরে পস্তাবে “

জানতাম শুনবেনা কথা, শোনেওনি,

ঝরনা এসেছিলো  সমতলে

সব ঝরনাই জানে সব কথা 

সব ঝরনাই  পরে  পস্তায়

তবুও তারা সব হারানোর খেলা খেলে 

হুড়মুড় করে নেমে আসে সমতলে 

—————-

আমি পালিয়ে বেড়াই

আমি পালিয়ে বেড়াই 
       – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আমি পালিয়ে বেড়াই ভাবনাগুলোকে 
প্রশ্রয় না দিয়ে 
আমি পালিয়ে বেড়াই ভাবনাগুলোকে 
আমার সাথে নিয়ে

মাথা ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে ফেলতে যে চাই 
দুরন্ত চিন্তাগুলো 
মাথা জুড়ে ভিড় করেছে তোমার 
টুকরো স্মৃতিগুলো 
আমি পালিয়ে বেড়াই, পালিয়ে এড়াই 
বাঁচার  ইচ্ছেটাকে 
আমার ইচ্ছেগুলো জড়িয়ে আছে 
তোমার দেহটাকে 
আমি হাটতে হাটতে, হাটতে হাটতে
ক্লান্ত হতে চাই 
ক্লান্ত হয়ে, ভাবনা পেরিয়ে 
ঘুমের দেশে যাই 
সপ্নে দেখি ভোর এসেছে 
আলতো আলতা পায়ে 
তোমার মতই হাসছে সে ভোর 
কুয়াশা শাড়ি গায়ে 
আমি পালিয়ে বেড়াই, পালিয়ে হারাই 
আমার বেঁচে থাকার কারন 
দেখি সামনে তুমি দাড়িয়ে আছো 
তোমার কাছে যাওয়া বারণ 
আমি তোমার বাড়ি যেতে গিয়ে 
আমার বাড়ি যাই 
আমি আমার বাড়ি খুঁজতে গিয়ে 
ঠিকানা হারাই 
আমি ভোরের সাথে ঝগড়া করে 
রাতের কাছে যাই 
আবার মধ্য রাতে একলা আমি 
ভোরের সঙ্গ চাই

আমি পালাতে পালাতে হারাতে হারাতে 
ক্লান্ত হয়ে গেছি 
তোমার দরজা খুলে দেখো, আমি 
আর একবার এসেছি 

………….

খুব মনে পরছে তোমায় 

খুব মনে পরছে তোমায় 
     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

খুব মনে পরছে তোমায় 
তবুও চিঠি লিখছিনা 
টিয়া সবুজ ওড়না পাখায়
রোদের নাচোন দেখছিনা

হালকা বাতাস শাপলা বোঁটায়
শিশির কণার ওই কাঁপন 
ঝিল্লি ডাকা বন-এর বুকে 
আমার সংগোপনে দিন যাপন

খুব মনে পরছে তোমায় 
কিসের যেন আজ অভাব 
‘অনেক কিছু’ থাকার সাথেই 
‘কিছুই নেই’ এর গোপন ভাব

খুব মনে পরছে তোমায় 
সেটাই আমার আনন্দ 
ফুলের বাগান, হোকতা দূরে 
গন্ধে আসুক বসন্ত 
……….

নিজস্ব তাজমহল

নিজস্ব তাজমহল      
    -সাম্যময় সেন গুপ্ত-       
 
একজন মানুষ তাজমহল গড়েছিল,   
একা একা – কেউ জানতে পারেনি,   
সে একটা একটা করে
পাথর বসিয়ে…  
পালিশ করে…,
গড়েছিল তাঁর প্রাণের তাজমহল,  
কেউ দেখেনি। দেখেছিল শুধু সেই    
ঘামে ভেজা নোনা স্বাদের ভালবাসা মোড়া দিনগুলো।

তারপর,     
একদিন সেই মানুষটার তাজমহল মরে গেল   
কেউ জানল না।  
সে একটা একটা করে
পাথর সরিয়ে  
তাজমহলের অস্তিত্ব মুছে দিল,
তাঁর প্রাণের তাজমহল  
কেউ দেখল না, দেখল শুধু   
জলে ভেজা নোনা স্বাদের
শূণ্যতায় মোড়া দিনগুলো।   
……………

মোম পোড়ে 

মোম পোড়ে 
– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

মোমবাতির পোড়ার কপাল,
তাই সে পোড়ে

সে যখন স্পর্শ করে,
তখন গলতে গলতে 
পুড়তে পুড়তে…,
গ্রামের মাঠ, নদীর ধার,
ভাসিয়ে প্লাবন 
বৃষ্টি ধোয়া পলাশ বন 
গলতে গলতে, পুড়তে পুড়তে,
মোমের মরণ

মোমবাতির পোড়ার কপাল,
তাই সে পোড়ে !

সবাই বারণ করেছিল, সব্বাই ; 
মা, ছোট কাকি, রাঙা মামা….,
কেউ বোঝেনা, বোঝেইনা 
মোমের মন ! 
তার কথা ভাবতে ভাবতে
স্বপ্ন ভরা ঘুমে,
চিলেকোঠার খাটে 
উপুড় মনের মাঠ

মোমবাতির পোড়ার কপাল,
তাই তো সে পোড়ে !

পোড় তবে ! পোড় ! পুড়ে মর 
কপাল পোড়া মেয়ে 
আমরা বুনবো গল্পকথা 
তোদের মরণ  দিয়ে !
………..