​অপ্রেম ডায়রি 4

​অপ্রেম ডায়রি 4

– সাম্যময় সেন গুপ্ত – 


যে সময়টি আমার কাছে “আজ”

পৃথিবীর অপর প্রান্তে, 

সেই সময়টিই “গতকাল”

অথএব, বুঝতেই পারছো –

আমার কাছে যা “এখনো”,

তোমার কাছে তা “ঘটে গেছে” ; 

দূরত্বে, সময়ের ব্যবধান ?

নাকি সময়ে, দূরত্বের ?

কৈফিয়ত চাইছি না -, 

আসলে কি জানো –

জীবনের সব অংকই 

মিলে যায়, শুধু …

উত্তরগুলো পছন্দ হয়না !

———-

Advertisements

​মৃগ নাভি

মৃগ নাভি 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –


নিশি রাত, কুঁড়ে ঘরের 

আঙ্গিনায় ঝুলন্ত লণ্ঠন,

দোল খায়

চঞ্চল বাতাসে,

বৃদ্ধ কোন কণ্ঠ 

ডেকে ওঠে “এ কাস্তুোরি !

কাস্তুোরি রে, কাহা গৈল বা !”

কোনো সারা নেই.

মিটি মিটি জোনাকি 

ভরা, ছমছমে আঁধার.

কোথায় গেলো কস্তুরি ?

দুরের জঙ্গলের সহিত 

মনের জঙ্গলের,

কি মিলন হইলো আজ ?

অন্ধকার মেখে দাড়িয়ে আছে 

তাল তমাল সার সার 

ঝিরি হাওয়া আবারো শুধায় 

“দোষ কার ? দোষ কার ?”

——

​যারা সরলা 

​যারা সরলা 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –
সব মেয়েই বিয়ের পরে –
সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
প্রাক বিবাহ ইতিহাসের 
মুখাগ্নি করে, শ্রাদ্ধবাসরে 
চোখের জল ফেলে,
ত্রিবেণি সঙ্গমের ডুবশুদ্ধি যেন -,
সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
ইতিহাসের চরিত্রগুলো 
সমুদ্র আকাশের মিলন রেখায় 
ভাসতে থাকা ছিপনৌকোর মত 
খুদ্র থেকে আরো খুদ্রতোরো দেখায়
নতুন সংসারে তখন 
ঢেউএর গর্জন, বালি নিয়ে খেলা….
তবু মাঝে মাঝে ছিপনৌকোর দিকে 
চোখ চলে যায় তাদের –
যারা সরল, নিষ্পাপ হয়ে যায়
—–

একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

একটি ডিভোর্সি মেয়েকে চিঠি 

          – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুনলাম তুমি ডিভোর্স নিচ্ছো, নাকি ডিভোর্স পেয়েই গেছো ? শুনলাম…. তবে কান পেতে শুনলাম, ছিঃ ছিঃক্কার শুনলাম, ফিশ ফিশ শুনলাম. আমি শুধু আমার শুভেচ্ছা সহ জানিয়ে রাখলাম : নিও, ডিভোর্স নিও, বারবার নিও, যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও. ডিভোর্সি মেয়েরা “মন্দ মেয়ে” হয়, জানো ? এক খুনেও ফাঁসি, দশ খুনেও ফাঁসি ! তাই বলি : যতোদিন না  মনের মতো দোসর পাও……. . 

রোধ ঝলমলে একটি হাশিমাখা দিনের জন্য, হাজার রাত পেরিয়ে যেও. ভয় নেই “মন্দ মেয়ে”, সব্বার কাছে মন্দ হওয়াটা, অতটা মন্দ কিছু নয় !

———–

এখনো ভালবাসো ?

এখনো ভালবাসো ?

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

এখনো আকাশের বুকে,

লেগে আছে কিছু জল ভরা মেঘ,

অভিমানের মতো.


সব মেঘ উড়িয়ে –

সব চিঠি পুড়িয়ে –

আয়নায় নিজেকে বলো

“এ এক নতুন আমি !”


সত্যি ? 

—–

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

প্রেম ছত্রাক ( 48 )

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ; অদরকারি কথা, অদরকারি মুখ, অদরকারি ঘটনা, অদরকারি জড়িয়ে ধরা, অদরকারি আদর, অদরকারি চুমু, অদরকারি চলে যাওয়া ও ফিরে আসা. মৃত্যু অবধি এই অদরকারির বোঝা বোয়ে বেড়ানো ! সেই জন্যেই কি মৃত্যুর আরেক নাম মুক্তি ?  এখন তো এমন অবস্থা হয়েছে, অদরকারির ভিড়ে, দরকারি কোন কিছু আর মনে জায়গাই পায়না. মনের কোন Delete বোতাম নেই তাই পরোতে  পরোতে জমতে থাকে ………

প্রেম

প্রেম 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রেমের বড় তাড়া ছিল 

ফিরে যাবার

তাই 

এক মুহূর্তের আঁচড়ে 

অনন্তকাল দিয়ে গেল


অনন্তকাল ঝিনুকের আঁধারে 

জ্বালা জমাট বাধে –

তবেই না তা মুক্ত হয় !

———–

এখনও

​   এখনও

  -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

এখনও দুপুরগুলো 
তরুণীদের মতই উচ্ছল,
টক আমের বোঁটা ছেঁড়া 
কষ বেয়ে, যৌবনের গরল,
পর্দার আড়ালে 
সরল পাপের আমন্ত্রণ 

এখনও, অনেক চাদরে 
লেগে আছে রক্তাক্ত বিপ্লব,
অনেক জানালায় -
লেগে আছে স্বপ্নের ইস্তাহার 

গোলা পায়ড়ার দুপুর -
নষ্ট  দুপুর,
মিষ্টি দুপুর,
ছাদ-এ জলের ট্যাঙ্কের 
পেছনে ;  অনেক প্রমাণ ...... !

এখনও অনেক পথ বাকি 
তবুও তো চিঠি এলনা -,
আয়নায় চাঁদ ধরা গেলেও 
জ্যোতস্না এলো না  !

-----------

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

প্রেম ছত্রাক  ( 24 )

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুকনো পাতায় ভরা জীর্ন ঘর 

চার দেয়ালে চার অধ্যায় টাঙানো পরপর, 

আসিও সংগোপনে

বিছানায় এক ফালি আলাপি রোদ্দুর 

জানালার পর্দায় বাতাসের সুর,

প্রিয়তমা আসিও সংগোপনে 

——