​বিক্রম – সনিকা 

​বিক্রম – সনিকা 

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


রাত মাখা রাস্তায় 

উল্কা গতি ধাবমান গাড়ি 

গাড়ির ভেতর 

একজন সুন্দরি, একজন সুপুরুষ 

খানিক অন্ধকার, খানিক ভাললাগা,

খানিকটা নেশা, খানিক কুয়াশা 
এই সবই গাড়িটার 

সামনের সিটের কথা 

পেছনের সিট সহ অর্ধেকটা 

অনেকটাই পেছনে, বহু দুরে,

বহু মাইল দুরে, সুদুর অতীতে 
সেই সিট আলো মাখা, 

সিটে ছরানো লাজুক হাসি 

বাঁধো  বাঁধো চিঠি, প্রথম চুম্বন শিহরন 

স্থির ভালবাসা, আর স্নিগ্ধ প্রেম 
অর্ধেক গাড়ি, ধাবমান গাড়ি 

খাদে গিয়ে পরে, 

এখন চারিদিকে শুধুই দেখি 

অর্ধেক গাড়ি, অর্ধেক জীবন,

অর্ধেক হৃদয়, অর্ধেক মানুষ…..,
বাকি অর্ধেক গাড়ি পরে থাকে 

কালি ঝুলি মেখে, “আগেকার দিনে”
————–

News:

Accident kills Model, injures Tv Actor

Advertisements

মূল্য আপেক্ষিক 

মূল্য আপেক্ষিক 

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রজাপতির কাছে ফুল –

কবিতা নয়,

কবিতা নয় নারি ,

ধর্ষকের কাছে,

একশো পাঁচশোর নোটে, 

বাপুজির হাসি  মূল্যহীন, 

মূল্যহীন হয় দামি শাড়ি 

কুশ্রী  নারির  অঙ্গে,

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি 

আর আমি যদি না হই 

তোমার রূপে মুগ্ধ,

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

যদি পৃথিবীতে থাকো শুধুই 

তুমি আর আমি –

আর তুমি যতটা বোঝাও 

আমি তার সিকিভাগ বুঝি 

তাহলে তুমি একান্তই সাদামাটা 

বোঝা গেলো সুন্দরী  ?

কাজেই, ঝিরিঝিরি বাতাশে 

বাগানের ফুল হয়ে দুলে যাও,

দুলে যাও….., দুলে যাও…..,

ঝরে যাওয়ার আগে !

________

অপ্রেম ডায়রি  ( 3 )

অপ্রেম ডায়রি ( 3 )

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

তুমি কি আমায় চেনো ? দেখেছো আগে ?

যদি পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একসাথে বলে “না বাপু, তোমায় আমরা চিনিনা কেউ !”, তখন আমি কি করবো ? কেমন করে পালাবো বুকের সেই শূন্য শীতলতার থেকে দুরে ? তাই বলি কি, যারা তোমায় চেনে আর চিনেছে খানিক, তাদের একটু খোঁজ খবর নিও. তারা খুব দামি, তাদের উষ্ণ উপস্থিতি বড় মুল্যবান. আমিও বুঝিনি আগে, নীল আকাশ, পাহাড়, সমুদ্র, ফুলের রাশি …….., এসব তুচ্ছ, হৃদয়হীন. এই পৃথিবীর  সব চেয়ে দামি ওই ধুক পুক করা হৃদয় আর হৃদয়ের উষ্ণতা.

_______

অপ্রেম ডায়েরি (1)

অপ্রেম ডায়েরি (1)

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কাঁচ ভেঙ্গে গেলে খুব সুন্দর করে ঝাঁট দেওয়া যায়. দেখ মেঝেটা এখন একদম পরিষ্কার. কাঁচ ভাঙ্গার আওয়াজ টুকু শুধু কানে লেগে আছে আজও. পরষ্পরের দেখা হলে, ওই পরিষ্কার মেঝেটাই দেখাবো তোমায়. ভাঙ্গা কাঁচ পায়ে ফোটেনি, তাই রক্তপাতও হয়নি. খুব বেঁচে গেছি, বলো ?! শুধু ওই আওয়াজ টুকু …….. .

……………..

কালো মেয়ের রাত 

কালো মেয়ের রাত 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

আজ রাত বড় নরম 

লাজুক তারায় ভরা —

কালো আকাশ ওড়না গায়ে ,

দুষ্টু, মিষ্টি, অধরা

          টিপ পরনি কালো মেয়ে  ?

           পরলে ভালো দ্যাখায় —-,

           শুধু নিশুত রাতে সেজো মেয়ে,

            নইলে সবাই তাকায় !

এসো মেয়ে বাইরে এসো 

রাত যে বড় একা 

গোপন করে হোকনা তোমায়

নতুন করে দ্যাখা !

          আজ রাতে মেয়ে ঘুমিয়ো নাকো

           বইছে দামাল হাওয়া,

            আরশিতে চাঁদ রেখো ধরে 

            তবেই আকাশ পাওয়া 

 ——-

প্রেম  ছত্রাক ( 41 )

প্রেম  ছত্রাক ( 41 )

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

প্রেম বিন্যাস করতে বসে 

কালো মেঘের আনাগোনা 

বাজ পরে ওই ঝলসে গেল 

চোদ্দ আনা , চোদ্দ আনা !

টুপ টুপ টুপ টাপুর টুপুর 

বৃষ্টি নয়গো, অশ্রুকণা 

চিলেকোঠায় হারিয়ে গেল 

চোদ্দ আনা , চোদ্দ আনা !

——-

​অচল পাঁচশো অচল হাজার

​অচল পাঁচশো, অচল হাজার

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

হাতের টাকা পাঁচশো হাজার,
এক রাতেই কাগজ 

এতে অবাক হওয়ার নেই কিছু 

এমনই তো হয় রোজ !
কথায় বলে – আজ আছে 

কাল নেই, একেবারেই নেই 

তবুও সব ভুলে, ছুটছো, লড়ছো,

বলছো…., তবুও তুমি, যেই কে সেই 
হাতেই তো থাকে প্রিয়জনের হাত,

তবুও কি ধরা  যায় ?

“সারা জীবন থাকবো পাশে”

বলেও তো খনিকে হারায় !
তোমার বুকের স্বপ্নগুলো,
তাদের কথাও বলতে হয়, 

টের কি পেলে একে একে 

কখন তারা  যে শুকায় ?
আজ যে চলে, কাল সে অচল 

আজ যে আপন, কাল সে পর…,

তোমায় ঘিরে চলছে ম্যাজিক

আর তুমি ? 

আঁকড়ে রয়েছো নিজের ঘর !!

————–

​কথা দিলাম

কথা দিলাম 

      -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

কথা দিলাম পলাশ রাঙ্গা বন 

                রোজ রাতে করবো জ্বালাতন

কথা দিলাম রোদ মাখা পথ প্রান্তর 

                লিখব চিঠি দুদিন অন্তর

কথা দিলাম ফ্রক্ পরা ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে 

                 ঔরস আশায়, থাকবো পথ চেয়ে !

কথা দিলাম অনেক চেনা, 

সব হারিয়ে যাওয়া মুখ 

               নরম স্মৃতিতে, রাখব গভীর দুখ্

রাখবো  তোমায় আমার পাশে 

আমার সাথে সাথে

 কথা দিলাম রাখবো ধরে 

                   বান ভাসির রাতে  !

—————–

রাতের তিন অধ্যায় 

রাতের তিন অধ্যায় 

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

কিছু স্তর কুয়াশায় 

কিছু হারিয়েছে অজানায়

ভালো মন্দ ভেদাভেদ 

রোধ বৃষ্টির চিলতে আবেগ 

সব নিয়ে গুটি পোকা অপেক্ষায় 

রাতের তিন অধ্যায়  !

————

প্রথম….. .

প্রথম…..

-সাম্যময় সেন গুপ্ত –
প্রথম চুম্বনে খানিকটা 

বিষ থাকে 

এক অধর থেকে  আর এক অধরে 

যায়, হৃদয় পোড়ায় …………,
সেই পোড়া দাগ, 

সেই হালকা জ্বালা জ্বালা ভাব,

তাও একদিন জুড়ায় —,
তোমার ছাইতে যখন গঙ্গাজল পরে, 

অল্প কিছুটা বাষ্প উঠে  আকাশে মিলায়,

কানা মন শুধু 

আঁধপোড়া নাভির দিকে চেয়ে বলে – 

ভালো তো বেসেছিলাম, বাসিনি বল ? 

পার্থিব গলা শুধু  টেনে টেনে বলে —

“বলো হরি, হরি বোল !”
————-