তোমায় ভেবে 

তোমায় ভেবে 

      – সাম্যময় সেন গুপ্ত –


আমার রুমালে কলকাতা লেগে আছে , 

ডান কাঁধেতে তোমার নখের দাগ ,

তোমার ঠোঁটের পায়ড়ারা বিদ্ধস্ত –

পরে আছে ওই গ্রাউন্ড জিরো-এ, এলোমেলো খাট


কাঁটাতার বেড়া, তারই নিচে খুড়ে মাটি

স্বাধীনতা আমি পাচার করেছি রোজ, 

তোমার খাঁজে খাঁজে মাদক কোকেন নেশা ,

শহরের সাথে শরীরী এক্সট্রা ডোজ


লালসায় লাল, কামনায় নীল, আর 

ডায়রিতে, আবছা ধুসর আমি ;

বন্দর ছেড়ে ওই রওনা দিলো এই জাহাজ,

ভালো থেকো মেয়ে, এই শহরটা তোমারি !

————-

পুরুষ

পুরুষ

    – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

কোনো পুরুষ সাপের মতো 

এঁকেবেঁকে চায়

কোনো পুরুষ বাঘের মতো

হালুম করে খায়

কোনো পুরুষ হ্যাংলা বেড়াল 

চুপিচুপি খায়

কোনো পুরুষ লেজ নাড়ে 

যদি কিছু পায়

———

এসো 

প্রেম ছত্রাক ( 32 ) / 

এসো

       – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

শুকনো পাতা মাড়িয়ে এসো

নিজেকে আজ হারিয়ে এসো

অতীত আঁধার পুড়িয়ে এসো

বকুল ঘ্রাণে মাখিয়ে এসো

রাতগুলোকেও তাড়িয়ে এসো

স্বপ্ন আবির রাঙ্গিয়ে এসো

চৈত্র শেষে অল্প সেজে 

শুকনো পাতা মাড়িয়ে  এসো 

——

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি

​প্রেম ছত্রাক ( 31 ) / 

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি

           – সাম্যময় সেন গুপ্ত –

নিঃসঙ্গতা একটা অসুখ 

তুমি চলে গেলে বাড়ে,

সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা, রাত 

চারবেলাই অন্ধকারে 

মনের বাঘ, মন কে খায়

দেহের বাঘ মানুষখেকো 

যারা বৃষ্টিতে ভেজেনি 

আজ তারা চন্দ্রাহত ! 

———-

জমেনি আসর

জমেনি আসর

       -সাম্যময় সেন গুপ্ত-

দুধ সাদা ঘাসে 

                নীল শাড়ি মাখা 

কিশোরী মনে, তরুণী দেহে 

               যুবতীর শুয়ে থাকা 

দরজা জানালা খোলা কল্পনার ঘর 

মধ্য রাতে হানা দেয় চাঁদনী ধোয়া ঝড় 

হায়, ঠুমরি ছিলো, দাদরা ছিলো, 

তবু জমেনি আসর !

আঁতোরের গন্ধ মাখা 

                   রূপের হেয়ালি 

চোখের ওই ঝাড়বাতিতে 

                  আলোর দেয়ালি,

তবলা বায়া সারেঙ্গিতে সবাই বিভোর 

  নিস্তব্ধ প্রতিধ্বনি, সুরের চাদর 

তুমি ছিলে, আমিও ছিলাম, 

তবু জমেনি আসর !

অকারণে লিখে যাওয়া দূর্বোধ্য কবিতা 

মূল্যবান শব্দ নিয়ে আলাপচারিতা 

বোঝা না বোঝার পালা সাঙ্গ হলে পরে 

মধ্য রাতের  নৈরাশ্য মাখা অন্ধকার ঘরে 

উষ্ণ রক্ত মাখা নগ্ন সহবাসে 

অদ্ভূত শান্তি নামে এ পরবাসে.

ভয় .

ভয় 

– সাম্যময় সেন গুপ্ত –

উঠতি মস্তান কে ভয়

চ্যাংড়া ছোড়াদের ভয় 

পুলিশ কে ভয়

কোর্ট কাছারি কে ভয়

হাসপাতাল কে ভয়

আক্সিডেনট  কে ভয়

আপিসের বস কে ভয়

অপমান কে ভয়

অসুখ কে ভয়

অপারেশন কে ভয়

নেতা কে ভয় 

ক্যানসার কে ভয়

এডস কে ভয়

দারিদ্র কে ভয়

চাকরি হারাবার ভয় 

ফেল করার ভয় 

নরকের ভয় 

প্রিয়জনের মারা যাবার ভয় 

আতঙ্কবাদীর ভয় 

নাশকতার ভয় 

বড় বড় খরচের ভয় 

ভালবাসা হারানোর ভয় 

জমার  শুদের হাড় কমার ভয় 

ধারের শুদের হাড় বাড়ার  ভয় 

অনলাইন ফ্রড আর হ্যাকিং এর ভয় 

ডিমোশনের ভয় 

কমপালসারি ওয়েটিং-কে ভয় 

শেয়ার মার্কেট পড়ার ভয় 

মাথার চুল ওঠার ভয় 

পকেটমারের ভয় 

বাড়ির চাবি হারাবার ভয় 

সন্তান বিপথে যাবার ভয় 

স্ত্রী অসতী হবার ভয় 

স্বামি পর হওয়ার ভয় 

ডিভোর্স কে ভয় 

ধ্বজভঙ্গ -এর ভয় 

ধর্ষনের ভয় 

ভুমিকম্পের ভয় 

আর অবশ্যই…..

মৃত্যু ভয় !


এই এত সব ভয় নিয়ে

যারা বেঁচে থাকে  

তাদের জীবন আলোয় ভরুক

পথের বাঁকে বাঁকে  

…………..

​প্রেম ছত্রাক (23)

​প্রেম ছত্রাক (23)

     – সাম্যময় সেন গুপ্ত –
খারাপ হতে ইচ্ছে করে  ?

নষ্ট হতে চাও ?

ঝাউবনের মধ্যে দিয়ে –

একলা হেটে যাও 

অন্ধকারে ছায়ার সাথে 

নিবিড় হতে চাও ?

গোপন রাতের সমুদ্র কে –

আপন করে নাও 

…………

​ভিজেছো তুমি  ?

​ভিজেছো তুমি  ?

   – সাম্যময় সেন গুপ্ত –
বৃষ্টি তো সবার জন্যই নেমে আসে 

তবুও, সবাই তো ভেজেনা
আজ ভিজেছিলে তুমি  ?

ভিজেছে তোমার চুল  ?

ভিজেছে তোমার  নদী  ?

সারাদিন নিরবধি টুপ টুপ…..
চিঠিতে লিখো প্লীজ

সেই সব বৃষ্টিদের কথা 

যারা তোমায় ভেজায় 

সারাদিন….টুপ টুপ … টাপুর টুপুর 

…………

নাড়ির টান

নাড়ির টান  
   -সাম্যময় সেন গুপ্ত- 

কোন ঘুম ঘুম দুপুরের আলস্যে, কাকগুলো  
যখন বিশ্রাম নেয়। 
তখন আমার
ঘরের আসবাবগুলো কথা বলে। 
ভাঙা খাট, রঙচটা আলমারি, ড্রেসিংটেবিল  
অনেক বছরের গোপন ধুলো ঝেড়ে  
স্মৃতির ফিনফিনে মশারি সরিয়ে  
সরব হয়।  
জন্ম, মৃত্য, বিবাহ, যৌন ও গৌণ ক্রিয়াকলাপ 
সবই দেখেছে তারা। 
তাদের সারা গায়ে ছড়িয়ে আছে
প্রিয় স্পর্শ ।  

একটা রক্ত মাংসের মানুষ ও আসবাবগুলো  
পারষ্পারিক রক্তের টান অনুভব করে   
স্বস্তি পায়।       

………………..